এমপিদের সরকারি গাড়ি, ৫ লাখ বেতন চান নুরুল হক নুর
- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫২৭ বার পড়া হয়েছে
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, জনপ্রতিনিধিদের কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে সংসদ সদস্যদের সরকারি গাড়ি দেওয়া উচিত। পাশাপাশি মন্ত্রীদের মাসিক বেতন ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, সংসদ সদস্যদের নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। অনেক এলাকার সড়কব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তাদের সরকারি গাড়ির সুবিধা থাকা প্রয়োজন। দায়িত্ব পালনকালে এমপিরা সরকারের দেওয়া গাড়ি ব্যবহার করবেন এবং মেয়াদ শেষে তা সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন—এমন ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, সচিবসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা যেভাবে সরকারি গাড়ির সুবিধা পান, সংসদ সদস্যদেরও দায়িত্বের স্বার্থে একই ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত।
জনপ্রতিনিধিদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য মূল বেতন হিসেবে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ভাতাসহ মোট প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। অন্যদিকে একজন মন্ত্রীর মূল বেতন প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার এবং প্রতিমন্ত্রীর প্রায় ৯২ হাজার টাকা। নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচনী এলাকায় গেলে চিকিৎসা সহায়তা, বিয়ে, খেলাধুলার পুরস্কারসহ নানা সামাজিক ও আর্থিক সহায়তার প্রত্যাশা থাকে। বর্তমান বেতনে এসব সামাজিক প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন। তাই মন্ত্রীদের মাসিক বেতন অন্তত ১০ লাখ এবং সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত ও সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তিগতভাবে বিপুল সম্পদের মালিক নন—এমন জনপ্রতিনিধিদের ওপর অনৈতিকভাবে অর্থ সংগ্রহের চাপ ও প্রলোভন কমবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কর্মীদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী বেতন নিশ্চিত করা জরুরি। তার ভাষ্য, সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় না থাকলে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সিঙ্গাপুরে লি কুয়ান ইউ এবং মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এরপর তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার সময় রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্টাডি করার সুযোগ পেয়েছেন। দেশে ফিরে তাঁর ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বক্তব্যের পর সেই পরিকল্পনার অনেকগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

















