ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম প্রতিরোধে ১৪ দফা দাবি, সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫১৬ বার পড়া হয়েছে

গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, সত্য উদ্ঘাটন, বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আইন প্রণয়নসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’। এসব দাবি নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীতে পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে বাংলামোটর মোড় থেকে শুরু হয় পদযাত্রা। পরে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। কর্মসূচি শেষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, সত্য উদ্ঘাটন, বিচার এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ১৪ দফা দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, সাবেক বিএনপি নেতা মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও ভুক্তভোগীবান্ধব আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গুমের অভিযোগের তদন্ত পুলিশ, র‍্যাব, গোয়েন্দা বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এককভাবে না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত কমিশন বা তদন্তব্যবস্থা গঠনের দাবি রয়েছে।

গত ১৫ বছরের সব গুমের ঘটনা পুনরায় যাচাই করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান নির্ধারণ, জীবিত থাকলে উদ্ধার এবং মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া গেলে পরিবারকে সত্য জানানো ও মরদেহের সন্ধানের দাবিও জানানো হয়েছে। ‘আয়নাঘর’সহ সব গোপন আটককেন্দ্রের তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা, গুমের ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ আইনে স্পষ্ট করা এবং গুমের অভিযোগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পুনঃপর্যালোচনার দাবিও জানানো হয়েছে।

১৪ দফা দাবিতে আরও বলা হয়েছে, গুম বা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে এমন ঘটনার তদন্ত ও বিচারিক এখতিয়ার আইনে স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের মাধ্যমে সংঘটিত অপহরণ, বেআইনি আটক বা গুমের ঘটনাকেও কার্যকর তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় কমিটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

গুম প্রতিরোধে ১৪ দফা দাবি, সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, সত্য উদ্ঘাটন, বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আইন প্রণয়নসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’। এসব দাবি নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীতে পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে বাংলামোটর মোড় থেকে শুরু হয় পদযাত্রা। পরে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। কর্মসূচি শেষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, সত্য উদ্ঘাটন, বিচার এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ১৪ দফা দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, সাবেক বিএনপি নেতা মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও ভুক্তভোগীবান্ধব আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গুমের অভিযোগের তদন্ত পুলিশ, র‍্যাব, গোয়েন্দা বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এককভাবে না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত কমিশন বা তদন্তব্যবস্থা গঠনের দাবি রয়েছে।

গত ১৫ বছরের সব গুমের ঘটনা পুনরায় যাচাই করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান নির্ধারণ, জীবিত থাকলে উদ্ধার এবং মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া গেলে পরিবারকে সত্য জানানো ও মরদেহের সন্ধানের দাবিও জানানো হয়েছে। ‘আয়নাঘর’সহ সব গোপন আটককেন্দ্রের তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা, গুমের ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ আইনে স্পষ্ট করা এবং গুমের অভিযোগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পুনঃপর্যালোচনার দাবিও জানানো হয়েছে।

১৪ দফা দাবিতে আরও বলা হয়েছে, গুম বা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে এমন ঘটনার তদন্ত ও বিচারিক এখতিয়ার আইনে স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের মাধ্যমে সংঘটিত অপহরণ, বেআইনি আটক বা গুমের ঘটনাকেও কার্যকর তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় কমিটি।