ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুতিদের ঠেকাতে ট্রাম্পের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রাভিযান। ইয়েমেনের উপকূল ধরে দক্ষিণমুখী অভিযানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন হুতিদের নাগালের মধ্যে। এতে বিশ্ব বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। আর এই পরিস্থিতিতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রে বাবেল মান্দেব প্রণালি। ইয়েমেন ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের দক্ষিণমুখী অগ্রাভিযানে প্রণালিটির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিশেষ করে বাবেল মান্দেবের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পেরিম দ্বীপে হুতিদের পৌঁছে যাওয়ার খবরে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এর আগে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়। বিকল্প হিসেবে সৌদি আরব লোহিত সাগরভিত্তিক তেল রপ্তানি রুটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বাবেল মান্দেবও ঝুঁকিতে পড়ায় রিয়াদের সেই বিকল্প পথ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাবেল মান্দেব প্রণালিতে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পথে যাচ্ছে না। বরং সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত—হুতিদের মোকাবিলায় সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া, নাকি সৌদি আরব ও আঞ্চলিক মিত্রদের নেতৃত্বেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দেওয়া।

হরমুজের পর বাবেল মান্দেবও যদি সংঘাতের বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

হুতিদের ঠেকাতে ট্রাম্পের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০২:৫৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রাভিযান। ইয়েমেনের উপকূল ধরে দক্ষিণমুখী অভিযানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন হুতিদের নাগালের মধ্যে। এতে বিশ্ব বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। আর এই পরিস্থিতিতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রে বাবেল মান্দেব প্রণালি। ইয়েমেন ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের দক্ষিণমুখী অগ্রাভিযানে প্রণালিটির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিশেষ করে বাবেল মান্দেবের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পেরিম দ্বীপে হুতিদের পৌঁছে যাওয়ার খবরে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এর আগে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়। বিকল্প হিসেবে সৌদি আরব লোহিত সাগরভিত্তিক তেল রপ্তানি রুটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বাবেল মান্দেবও ঝুঁকিতে পড়ায় রিয়াদের সেই বিকল্প পথ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাবেল মান্দেব প্রণালিতে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পথে যাচ্ছে না। বরং সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত—হুতিদের মোকাবিলায় সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া, নাকি সৌদি আরব ও আঞ্চলিক মিত্রদের নেতৃত্বেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দেওয়া।

হরমুজের পর বাবেল মান্দেবও যদি সংঘাতের বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।