ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের জন্য বিশেষ বাস চালিয়ে বাড়ছে বিআরটিসির লোকসান

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৫৯ বার পড়া হয়েছে

নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা চালু করেও পরিচালন ব্যয় মেটাতে পারছে না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন বা বিআরটিসি। যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া ভাড়ায় জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছে না। ফলে নিয়মিত দিতে হচ্ছে সরকারি ভর্তুকি। বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, নারী বাসসেবায় প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এই লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন,

বিআরটিসির ১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১২ কার্যদিবসে ১৫৮টি ট্রিপে ১৪ হাজার ১১৬টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮ টাকা। মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিল রুটের হিসাব ধরলে একটি বাস এক ট্রিপে যাওয়া-আসা মিলিয়ে ৪২ কিলোমিটার চলাচল করে। এক লিটার ডিজেলে ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার চললে এক ট্রিপে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৭ থেকে ২১ লিটার ডিজেল। ১১৫ টাকা লিটার হিসাবে শুধু জ্বালানিতেই খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

এর সঙ্গে প্রতি কিলোমিটারে ৭ টাকা হিসাবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যোগ হলে এক ট্রিপে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। সেপ্টেম্বরের ১৫৮টি ট্রিপে শুধু জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণেই খরচ হয়েছে আনুমানিক ৩ লাখ ৫২ হাজার থেকে ৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। অথচ আয় হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার টাকা। এর বাইরে রয়েছে চালক ও সহকারীদের বেতন, টায়ার, লুব্রিকেন্ট, কর, প্রশাসনিক ব্যয় ও বাসের অবচয়।

আরও পড়ুন,

আগস্টের হিসাবেও দেখা গেছে একই চিত্র। ১১৪টি ট্রিপে আয় হয়েছিল মাত্র ৯৮ হাজার ৬৪৬ টাকা। অথচ জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণেই খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার থেকে ৩ লাখ ৯ হাজার টাকা। এদিকে নারী বাসসেবায় যাত্রীসংখ্যাও প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। ৬০ আসনের বাসে প্রতি ট্রিপে গড়ে প্রায় ২০টি আসন খালি থাকছে।

বিআরটিসি বলছে, নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই সেবা চালু করা হয়েছে। বাসের সংখ্যা ও যাত্রী বাড়লে ভর্তুকির পরিমাণ কমে আসবে। তবে শুক্রবার ও শনিবার নারী বাসসেবা বন্ধ থাকায় সেবার পরিধি এবং সম্ভাব্য আয়—দুটিই সীমিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

নারীদের জন্য বিশেষ বাস চালিয়ে বাড়ছে বিআরটিসির লোকসান

আপডেট সময় : ০৪:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা চালু করেও পরিচালন ব্যয় মেটাতে পারছে না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন বা বিআরটিসি। যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া ভাড়ায় জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছে না। ফলে নিয়মিত দিতে হচ্ছে সরকারি ভর্তুকি। বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, নারী বাসসেবায় প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এই লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন,

বিআরটিসির ১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১২ কার্যদিবসে ১৫৮টি ট্রিপে ১৪ হাজার ১১৬টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮ টাকা। মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিল রুটের হিসাব ধরলে একটি বাস এক ট্রিপে যাওয়া-আসা মিলিয়ে ৪২ কিলোমিটার চলাচল করে। এক লিটার ডিজেলে ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার চললে এক ট্রিপে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৭ থেকে ২১ লিটার ডিজেল। ১১৫ টাকা লিটার হিসাবে শুধু জ্বালানিতেই খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

এর সঙ্গে প্রতি কিলোমিটারে ৭ টাকা হিসাবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যোগ হলে এক ট্রিপে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। সেপ্টেম্বরের ১৫৮টি ট্রিপে শুধু জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণেই খরচ হয়েছে আনুমানিক ৩ লাখ ৫২ হাজার থেকে ৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। অথচ আয় হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার টাকা। এর বাইরে রয়েছে চালক ও সহকারীদের বেতন, টায়ার, লুব্রিকেন্ট, কর, প্রশাসনিক ব্যয় ও বাসের অবচয়।

আরও পড়ুন,

আগস্টের হিসাবেও দেখা গেছে একই চিত্র। ১১৪টি ট্রিপে আয় হয়েছিল মাত্র ৯৮ হাজার ৬৪৬ টাকা। অথচ জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণেই খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার থেকে ৩ লাখ ৯ হাজার টাকা। এদিকে নারী বাসসেবায় যাত্রীসংখ্যাও প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। ৬০ আসনের বাসে প্রতি ট্রিপে গড়ে প্রায় ২০টি আসন খালি থাকছে।

বিআরটিসি বলছে, নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই সেবা চালু করা হয়েছে। বাসের সংখ্যা ও যাত্রী বাড়লে ভর্তুকির পরিমাণ কমে আসবে। তবে শুক্রবার ও শনিবার নারী বাসসেবা বন্ধ থাকায় সেবার পরিধি এবং সম্ভাব্য আয়—দুটিই সীমিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।