ভালো সড়ক, যানজট নেই- তবু ৪৮ কিলোমিটারে আড়াই ঘণ্টা

- আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫১৭ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের দূরত্ব কম হলেও গণপরিবহনের দুর্ভোগ যেন কমছে না হরিরামপুর-সিংগাইর-দোহার-নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের। মাত্র ৪৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যেখানে সড়ক ভালো, টোল নেই, যানজটও নেই—সেখানে সময় লাগছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাসের নিম্নমানের সেবা, অতিরিক্ত যাত্রী এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাতায়াতের অভিযোগ।
সম্প্রতি হরিরামপুর থেকে ঢাকার গাবতলী পর্যন্ত যাতায়াতকারী এক যাত্রীর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এমন চিত্র। ওই যাত্রীর দাবি, হরিরামপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত মাত্র ৪৮ কিলোমিটার পথ যেতে ‘শুকতারা’ বাসে সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। অথচ একই যাত্রাপথে সড়কে উল্লেখযোগ্য যানজট বা টোলের বাধা ছিল না।
যাত্রীর অভিযোগ, বাসটির অধিকাংশ সিট নোংরা ও ভাঙাচোরা। সিটগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে বসতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পা রাখার পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। হরিরামপুর থেকে বাসে কিছু আসন খালি থাকলেও বালিরটেক এলাকায় পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় বাসটি প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়।
এরপর অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে বাসের ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গাও থাকে না। অথচ এ পথে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
তাদের মতে, বিষয়টি শুধু হরিরামপুরের মানুষের সমস্যা নয়। মানিকগঞ্জ, সিংগাইর, দোহার, নবাবগঞ্জ এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষও নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থী এই পথে ঢাকায় যাতায়াত করেন।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হওয়ায় তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
অন্যদিকে, সম্প্রতি খুলনা থেকে ঢাকায় যাতায়াত করা এক যাত্রী তার অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই সড়কের গণপরিবহনের তুলনা তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনা সোনাডাঙ্গা থেকে ঢাকার সায়েদাবাদ পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ পদ্মা সেতু ও হাইওয়ের টোল পরিশোধ করেও একটি লাক্সারিয়াস বাসে মাত্র ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। বাসটি ছিল পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক এবং কোনো যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যেতে হয়নি।
এমন অভিজ্ঞতার সঙ্গে হরিরামপুর-গাবতলী রুটের গণপরিবহনের তুলনা করে প্রশ্ন উঠেছে—ঢাকার এত কাছে থেকেও কেন এই অঞ্চলের মানুষকে নিম্নমানের বাসসেবা ও দীর্ঘ যাত্রাসময়ের ভোগান্তি পোহাতে হবে?
স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও পর্যাপ্ত সংখ্যক বাসের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন এবং বাসের ফিটনেস ও সেবার মান নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।
হরিরামপুর-সিংগাইর-দোহার-নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের গণপরিবহন সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
তবে ‘শুকতারা’ বাস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।



























