ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবুবাজার ব্রিজের নিচে সিটি করপোরেশনের রসিদে টাকা আদায়ের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নাম ব্যবহার করে যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সিটি করপোরেশনের টোকেন বা রসিদ ব্যবহার করে ব্রিজের নিচে অন্তত দুটি পয়েন্টে রাতভর পৃথক কয়েকটি গ্রুপ টাকা তুলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

রাত আড়াইটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে মিটফোর্ড হাসপাতালের প্রবেশপথসংলগ্ন এলাকায় ডিএসসিসির রসিদ ব্যবহার করে যানবাহন থেকে টাকা তুলতে দেখা যায়। সেখানে দায়িত্ব পালনকারী সুজন নামের এক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে তিনি এ কাজ করেন। তার দাবি, সিটি করপোরেশনের স্লিপ দিয়ে প্রতিটি যানবাহন থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করতে বলা হয়েছে।

টাকা আদায়ের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুজন বলেন, এ বিষয়ে তিনি জানেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পয়েন্টে শিফট অনুযায়ী তিন থেকে চারজন দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে, বেড়িবাঁধসংলগ্ন মিটফোর্ড হাসপাতালের সীমানার কোণায়ও একজনকে যানবাহন থেকে টাকা তুলতে দেখা যায়। ক্যামেরা সামনে যেতেই তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ ছাড়া জোবায়ের নামে আরেক ব্যক্তিকে টাকা তুলতে দেখা যায়। তিনি জানান, ‘আউয়াল ভাই’ নামে একজন তাকে রসিদ দিয়ে টাকা তুলতে বলেছেন। এ কাজের জন্য তাকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক চালকের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হেনস্তা করেন। এমনকি মারধর, গাড়ি আটকে রাখা এবং গাড়ির কাচ ভাঙার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এ কারণে অনেক চালক বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে ওই এলাকা পার হন।

সরেজমিনে পাওয়া একটি রসিদে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন’ লেখা রয়েছে। সেখানে ইজারাদার হিসেবে মো. নিয়াজ মোরশেদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রসিদে ফুলবাড়িয়া, টপ ওভার, বাস টার্মিনাল, গোলাপশাহ মাজার, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবাজার, নবাবপুর, চকবাজার, বাদামতলী, নয়াবাজার ও বাবুবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার নাম রয়েছে।

রসিদে ‘সংশ্লিষ্ট যানবাহন হতে টোল ফ্রি আদায়ের রশিদ’ লেখা থাকলেও বিভিন্ন যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা হারে আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। চালকদের অভিযোগ, বাস্তবে যানবাহনের ধরন অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি টাকাও নেওয়া হচ্ছে। ছোট ট্রাক থেকে ১০০ টাকা এবং বড় মালবাহী ট্রাক থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

চালকদের অভিযোগ, এক জায়গায় পুলিশ থাকলে কিছুদূর পর অন্য জায়গায় গিয়ে টাকা আদায় করা হয়। ফলে রাতের বেলায় বাবুবাজার ব্রিজের নিচ দিয়ে চলাচলকারী পরিবহন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, বাবুবাজার ব্রিজের নিচের জায়গা ইজারা দেওয়া হলেও বাইরে চলাচলকারী কোনো পরিবহন থেকে টোকেন দিয়ে টাকা আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়নি।

সিটি করপোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক (পরিবহন) গোলাম মোর্শেদ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ কয়েকবার পাওয়া গেছে। তার দাবি, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় যানবাহন থেকে টাকা আদায়ের কোনো ইজারা সিটি করপোরেশন দেয়নি।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল সালাম বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং তাদের পুলিশে সোপর্দ করার পরামর্শ দেন তিনি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তার কাছে বর্তমানে নেই। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন কোন কোন স্থানে ইজারা দিয়েছে এবং কোথায় দেয়নি—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে অবহিত করা হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশের কাজ সহজ হবে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:১৪
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৬:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২০
  • ১২:০৪
  • ৪:৩৪
  • ৬:২৮
  • ৭:৪৪
  • ৫:৩৬

বাবুবাজার ব্রিজের নিচে সিটি করপোরেশনের রসিদে টাকা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নাম ব্যবহার করে যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সিটি করপোরেশনের টোকেন বা রসিদ ব্যবহার করে ব্রিজের নিচে অন্তত দুটি পয়েন্টে রাতভর পৃথক কয়েকটি গ্রুপ টাকা তুলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

রাত আড়াইটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে মিটফোর্ড হাসপাতালের প্রবেশপথসংলগ্ন এলাকায় ডিএসসিসির রসিদ ব্যবহার করে যানবাহন থেকে টাকা তুলতে দেখা যায়। সেখানে দায়িত্ব পালনকারী সুজন নামের এক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে তিনি এ কাজ করেন। তার দাবি, সিটি করপোরেশনের স্লিপ দিয়ে প্রতিটি যানবাহন থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করতে বলা হয়েছে।

টাকা আদায়ের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুজন বলেন, এ বিষয়ে তিনি জানেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পয়েন্টে শিফট অনুযায়ী তিন থেকে চারজন দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে, বেড়িবাঁধসংলগ্ন মিটফোর্ড হাসপাতালের সীমানার কোণায়ও একজনকে যানবাহন থেকে টাকা তুলতে দেখা যায়। ক্যামেরা সামনে যেতেই তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ ছাড়া জোবায়ের নামে আরেক ব্যক্তিকে টাকা তুলতে দেখা যায়। তিনি জানান, ‘আউয়াল ভাই’ নামে একজন তাকে রসিদ দিয়ে টাকা তুলতে বলেছেন। এ কাজের জন্য তাকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক চালকের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হেনস্তা করেন। এমনকি মারধর, গাড়ি আটকে রাখা এবং গাড়ির কাচ ভাঙার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এ কারণে অনেক চালক বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে ওই এলাকা পার হন।

সরেজমিনে পাওয়া একটি রসিদে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন’ লেখা রয়েছে। সেখানে ইজারাদার হিসেবে মো. নিয়াজ মোরশেদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রসিদে ফুলবাড়িয়া, টপ ওভার, বাস টার্মিনাল, গোলাপশাহ মাজার, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবাজার, নবাবপুর, চকবাজার, বাদামতলী, নয়াবাজার ও বাবুবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার নাম রয়েছে।

রসিদে ‘সংশ্লিষ্ট যানবাহন হতে টোল ফ্রি আদায়ের রশিদ’ লেখা থাকলেও বিভিন্ন যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা হারে আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। চালকদের অভিযোগ, বাস্তবে যানবাহনের ধরন অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি টাকাও নেওয়া হচ্ছে। ছোট ট্রাক থেকে ১০০ টাকা এবং বড় মালবাহী ট্রাক থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

চালকদের অভিযোগ, এক জায়গায় পুলিশ থাকলে কিছুদূর পর অন্য জায়গায় গিয়ে টাকা আদায় করা হয়। ফলে রাতের বেলায় বাবুবাজার ব্রিজের নিচ দিয়ে চলাচলকারী পরিবহন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, বাবুবাজার ব্রিজের নিচের জায়গা ইজারা দেওয়া হলেও বাইরে চলাচলকারী কোনো পরিবহন থেকে টোকেন দিয়ে টাকা আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়নি।

সিটি করপোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক (পরিবহন) গোলাম মোর্শেদ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ কয়েকবার পাওয়া গেছে। তার দাবি, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় যানবাহন থেকে টাকা আদায়ের কোনো ইজারা সিটি করপোরেশন দেয়নি।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল সালাম বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং তাদের পুলিশে সোপর্দ করার পরামর্শ দেন তিনি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তার কাছে বর্তমানে নেই। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন কোন কোন স্থানে ইজারা দিয়েছে এবং কোথায় দেয়নি—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে অবহিত করা হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশের কাজ সহজ হবে বলে জানান তিনি।