নৈতিকতার ঘাটতিতে বাড়ছে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি

- আপডেট সময় : ০২:০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে। বর্তমানে মোট ঋণের ৩২ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংকের ঋণ আদায় ও পুনঃবিনিয়োগের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মাহবুব উল্লাহ। শনিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের আয়োজনে ২৩তম নুরুল মতিন মেমোরিয়াল লেকচারে ‘ব্যাংকিং-এ নৈতিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো ঋণের অর্থ বারবার অর্থনীতিতে ঘুরে ফিরে ব্যবহার হওয়া। ব্যাংক আমানতকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ঋণ দেয়। সেই ঋণের কিস্তি ও সুদ ফেরত এলে তা আবার নতুন ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকায় এই স্বাভাবিক চক্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, দীর্ঘদিনের লোকসান ও খেলাপি ঋণের কারণে কিছু ব্যাংক আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-২ মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণেও সমস্যায় পড়ছে। এতে নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে যেসব ব্যাংকের এখনো ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তারাও ঝুঁকি কমাতে নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। ফলে যোগ্য উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকরী মূলধন এবং নতুন বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ পেতে সমস্যায় পড়ছে। এর প্রভাব উৎপাদন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর পড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা সুশাসন জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, একটি ব্যাংকের শক্তি শুধু মূলধন প্রযুক্তি বা তারল্যের ওপর নির্ভর করে না। আমানতকারী ঋণগ্রহীতা বিনিয়োগকারী এবং সামগ্রিক অর্থনীতির আস্থাই ব্যাংকিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
স্বাগত বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মোঃ এজাজুল ইসলাম ঋণ অনুমোদন পুনঃতফসিলীকরণ সম্পদের মূল্যায়ন গ্রাহক নির্বাচন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ব্যাংকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

















