‘বিশ্বকাপ বিক্রি’র পরিকল্পনায় বিপাকে ইনফান্তিনো

- আপডেট সময় : ০৯:০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫২৭ বার পড়া হয়েছে
ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করে বড় ধরনের বিতর্কে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইউয়েফা ও কনকাকাফের তীব্র বিরোধিতা এবং বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফিফা। মঙ্গলবার ইনফান্তিনো ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে—এমন পরিকল্পনা ছিল।
এরই অংশ হিসেবে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ফুটবল প্রশাসনে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। প্রথমে ফিফার এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা। এরপর উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ জানায়, তাদের ৪১টি সদস্য সংস্থাও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
পরে ইউয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এএফসি। ফলে ফিফার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বড় তিনটি মহাদেশীয় ফুটবল শক্তির অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিরোধিতা আরও তীব্র হলে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন। এরপর ফুটবল অঙ্গনে বাড়তে থাকা চাপের মুখে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ায় ফিফা।
এই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠেছে—এটাই কি ইনফান্তিনো যুগের শেষের শুরু?
২০১৬ সালে দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করা সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। এরপর আরও দুই মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক কনফেডারেশনের অসন্তোষ তার অবস্থানকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আগামী বছরের ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ফিফা সভাপতি নির্বাচন। প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। এরই মধ্যে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টগলিয়ানি। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই কানাডীয় ফুটবল প্রশাসককে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আলোচনায় রয়েছেন এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও। দীর্ঘদিন ধরে এশীয় ফুটবলের নেতৃত্ব দেওয়া এই বাহরাইনি কর্মকর্তা ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনার অন্যতম সমালোচক। এ ছাড়া পিএসজি সভাপতি ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবসের চেয়ারম্যান নাসের আল-খেলাইফির নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে তিনি ফিফা সভাপতি হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ফিফার বর্তমান মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রমের নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় আছে। তবে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার প্রার্থিতা নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন—সমালোচনার ঝড় সামলে ইনফান্তিনো কি আবারও ফিফার শীর্ষ পদে ফিরতে পারবেন, নাকি ২০২৭ সালে ফুটবল প্রশাসনে শুরু হবে নতুন অধ্যায়?




























