১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙনের সুর?

- আপডেট সময় : ০৮:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫২৩ বার পড়া হয়েছে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য গড়ে একসঙ্গে মাঠে নামলেও বছরের মাঝামাঝি এসে সেই জোটে মতভেদের আভাস দেখা দিয়েছে। জোটের একাধিক সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস বিকল্প নির্বাচনী বোঝাপড়ার কথা ভাবছে। এ আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে অন্য কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় নির্বাচনেও সমন্বিত কৌশলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকারের কয়েকটি স্তরে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটিই দলগুলোর প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রাথমিক আলোচনা।
১১ দলীয় ঐক্যের কয়েকটি দলের নেতাদের যুক্তি, স্থানীয় নির্বাচনেও জোটগত সমন্বয় না থাকলে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জোটের একাধিক দলের সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে, সেখানে আলাদা প্রার্থী দিলে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে জামায়াতের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। দলটির নেতারা মনে করেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পদে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা করা বাস্তবসম্মত নয়। স্থানীয় নির্বাচনকে দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা ও স্থানীয় নেতৃত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেই দেখতে চায় দলটি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই কয়েক মাস সময় লেগেছিল। স্থানীয় সরকারের বিপুলসংখ্যক পদে একই ধরনের সমঝোতা বাস্তবসম্মত নয়। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো এলাকায় সমঝোতার প্রয়োজন হলে কেন্দ্র থেকে বাধা থাকবে না বলেও জানান তিনি।
জামায়াতকে বাদ দিয়ে কয়েকটি দলের বিকল্প সমঝোতার আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এমন কোনো আলোচনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। পরিস্থিতি তৈরি হলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে প্রার্থী বাছাইয়ের অভ্যন্তরীণ জটিলতা এবং ভোটের কৌশল নির্ধারণে নীতিনির্ধারকদের ধীরগতির কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ক্ষমতাসীন বিএনপি কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ সমন্বয়, জামায়াতের একক নির্বাচনের কৌশল এবং খেলাফতপন্থী দলগুলোর সম্ভাব্য নতুন নির্বাচনী বোঝাপড়া—রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন দল কার সঙ্গে সমঝোতা করবে, নাকি স্থানীয় নির্বাচনে অধিকাংশ দলই আলাদাভাবে মাঠে নামবে—তা নির্ভর করবে তফসিল ঘোষণা ও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার ওপর।





























