মাগুরায় ভূমি অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরির অভিযোগ

- আপডেট সময় : ০৯:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫২০ বার পড়া হয়েছে
মাগুরায় বুনাগাতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ৮ম শ্রেণির জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে চাকরি করার অভিযোগ গৌতম কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।
২০১৩ সালে মোঃ রফিকুল ইসলাম, গ্রামঃ বরুনাতৈল, মাগুরা সদর, মাগুরা নামক একজন অফিস সহায়ক পদে দরখাস্তকারী ব্যক্তি ঐ একই বিষয় নিয়ে দরখাস্ত করেছিলেন, যা রাজস্ব শাখার একজন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এসএ শাখার প্রধান সহকারী আব্দুল মজিদ ২,০০০০০/= লক্ষ টাকা ও এসএ শাখার নাজির মোঃ জাহিদুল ইসলাম (বর্তমানে মহম্মদপুর কর্মরত) আছেন তিনিও ২,০০০০০/=টাকা নিয়ে দুজনে মোট ৪,০০০০০/= টাকা নিয়ে দরখাস্তটি রাজস্ব শাখায় বালিশ চাপা দেয়া মত চেপে রেখেছেন।
মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীনে ২০১৩ সালে দেওয়া একটি অফিস সহায়ক নিয়োগকে ঘিরে বয়স জালিয়াতি, ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষাসনদ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মচারী বর্তমানে শালিখা উপজেলার বুনাগাতী ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযুক্তের নাম গৌতম কুমার বিশ্বাস। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও ভিন্ন তথ্য সম্বলিত নথি ব্যবহার করে তিনি সরকারি চাকরি লাভ করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের স্মারক নং ০৫.৪৪.৫৫০০.০০৮.০৯.০১৮.১৩-১৫৬১ এর মাধ্যমে সাত জনকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই তালিকায় গৌতম কুমার বিশ্বাসও ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গৌতম কুমার বিশ্বাসের জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ১২ ডিসেম্বর ১৯৭৮। অথচ চাকরিতে ব্যবহৃত জন্মনিবন্ধন সনদে জন্মতারিখ দেখানো হয়েছে ১২ ডিসেম্বর ১৯৮৫। একই ব্যক্তির দুটি সরকারি নথিতে ৭ বছরের পার্থক্য। স্থানীয়দের ভাষ্য, তার বর্তমান বয়স ৬০ বছরের কাছাকাছি।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারাজী বেনজীর আহম্মেদ বলেন, “গৌতম কুমার বিশ্বাসের ভোটার আইডি কার্ড ও জন্মনিবন্ধন সনদের মধ্যে অমিল রয়েছে। ভোটার আইডির তথ্য আগে হয়েছে, পরে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়েছে।”
শুধু বয়স নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, চাকরির জন্য অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণের একটি সনদ ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে জারিয়া সম্মিলনী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার ঘোষ বলেন, “গৌতম কুমার বিশ্বাস আমাদের বিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র ছিলেন না। আমি তাকে কোনো অষ্টম শ্রেণির সনদ দিইনি। তিনি কখনো এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেননি। এ ধরনের সনদের দায় বিদ্যালয় বহন করবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, “আমরা ছয় ভাই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছি। কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকতে পারে। আমি মাগুরা উন্মুক্ত থেকে এসএসসি পাস করেছি। কিন্তু আমার চাকরির নিয়োগে কেন অষ্টম শ্রেণির সনদ ব্যবহার হয়েছে, তা আমি জানি না।”
একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, মৃত রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের ছয় ছেলের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।লিখিত অভিযোগকারী বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, “অনেক যোগ্য প্রার্থী চাকরি পাননি। অথচ বয়স ও নথি নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক।”
মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুবুল হক বলেন, “গৌতম কুমার বিশ্বাসের বিষয়ে কিছু প্রয়োজনীয় নথি হাতে পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” শালিখা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. সাব্বির হাসান বলেন, “নিয়োগটি ২০১৩ সালের। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তসাপেক্ষ। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কেউ ভুল তথ্য, ভুয়া জন্মনিবন্ধন বা জাল শিক্ষাসনদ ব্যবহার করলে তা গুরুতর প্রশাসনিক ও ফৌজদারি অপরাধ। সে ক্ষেত্রে নিয়োগের বৈধতা ও চাকরিকালীন প্রাপ্ত সুবিধাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
১৩ বছর আগের এই নিয়োগ ঘিরে ওঠা প্রশ্নের এখনো সুনির্দিষ্ট উত্তর মেলেনি। তবে সরকারি নথিতে অসঙ্গতি ও প্রশাসনের হাতে নতুন তথ্য পৌঁছানোর পর নির্বাচন কমিশন, জন্মনিবন্ধন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।শ্রী বিধান কুমার বিশ্বাস এই বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা যায়।



























