আসাদের ঘনিষ্ঠ সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি হাসুনের যাবজ্জীবন

- আপডেট সময় : ০৯:১৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫১০ বার পড়া হয়েছে
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ শীর্ষ মুসলিম ধর্মীয় কর্মকর্তা আহমেদ বদরউদ্দিন হাসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। সহিংসতায় উসকানি, হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সোমবার দামেস্কের চতুর্থ অপরাধ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির দায়িত্ব পালন করেন হাসুন। ২০২৫ সালের মার্চে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর এক মাস আগে আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে এসেছিলেন তিনি। গত ২৫ জুন তার বিচার শুরু হয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আসাদ সরকারের আমলে সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানগুলোর ধর্মীয় বৈধতা দিতে হাসুন ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিচারক ফখরুদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, বেসামরিক এলাকায় ব্যারেল বোমা হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন হাসুন। একই সঙ্গে তার ধর্মীয় বক্তব্যে সামরিক কর্মকর্তা ও সেনাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর আহ্বান জানানো এবং পূর্ব আলেপ্পোর বেসামরিক নাগরিকদের ঘরবাড়ি ছাড়ার আহ্বান জানানোর অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে উসকানির দায়ে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং হত্যাকাণ্ড দীর্ঘায়িত করার দায়ে আরও ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। একাধিক সাজা মিলিয়ে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ এবং তার অর্থ-সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় হাসুন কোনো সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমার আওতায় থাকবেন না। সিরিয়ার বর্তমান সরকার এই রায়কে দেশটির রূপান্তরকালীন বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে। তবে হাসুনের সমর্থকদের দাবি, তার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের অনেকে তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিলেন।



























