মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর ও বড় উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

- আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫২৫ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে দেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন উদ্যোগ—গভীর সমুদ্রবন্দর, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর মহেশখালীতে এটিই তাঁর প্রথম সফর।
রবিবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
মাতারবাড়িতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বাস্তবায়নাধীন ও প্রস্তাবিত অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
বৈঠকে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালীকে ঘিরে চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত অবহিত হন।
মাতারবাড়িতে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলের নেতারা।
মাতারবাড়িকে ঘিরে গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মহেশখালীকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষ করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বড় জাহাজে পণ্য পরিবহন এবং শিল্প ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মিডার পরিকল্পনায় শিল্প, আবাসন, যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে উঠলে পুরো মহেশখালী একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।



























