নির্বাচন বর্জনের ডাক ঘিরে কাশ্মীরে উত্তেজনা

- আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নির্বাচন বর্জনের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষই হতাহতের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। বিবিসি উর্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওয়ালাকোট শহরে জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সদস্যদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।
জেএএসি দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে রাওয়ালাকোট ও মিরপুরে তাদের ১৭ সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাওয়ালাকোটের দারিক এলাকায় ১১ জন এবং মিরপুরে ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টার সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষের দেওয়া হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, দারিক এলাকার কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনে সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে। সংঘর্ষের প্রভাবে মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বন্ধ রয়েছে অনেক দোকানপাট ও মার্কেট। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সেবা সীমিত বা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী ফয়সাল মুমতাজ রাঠোর দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনের সময় মুজাফফরাবাদের দিকে লংমার্চ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দাবির অংশ হিসেবে দেখছেন। এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সংকট সমাধানে একটি ‘ট্রুথ কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও পাকিস্তানের হিউম্যান রাইটস কমিশন ঘটনাটির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। তারা বিক্ষোভ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি হলো, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের আইনসভায় কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা। তাদের অভিযোগ, এসব আসনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।



























