ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির শেষ ইচ্ছায় জানাজায় ইমামতি করলেন প্রবীণ শিয়া আলেম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পবিত্র নগরী মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজার মাজারে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শিয়া মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রবীণ ধর্মীয় পণ্ডিত, ১০১ বছর বয়সী গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি এই জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার শেষ ইচ্ছা এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি পরম শ্রদ্ধা জানিয়ে এই প্রবীণ আলেমকে জানাজা পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি ১৯২৫ সালের মার্চ মাসে ইরানের হামাদান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ইসলামি জ্ঞানচর্চায় এক অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান অর্জন করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পবিত্র নগরী কোমে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক ও অভিভাবক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আরও পড়ুন, 

তার এই প্রাজ্ঞ গবেষক হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামি দর্শনের প্রখ্যাত পণ্ডিত আল্লামা তাবাতাবাই এবং গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদীর মতো কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বদের সরাসরি শিষ্য ছিলেন। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে তাদের কাছ থেকে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের পর তিনি ইসলামি গবেষণার জগতে এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

আরও পড়ুন, 

পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পর, ইরান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ইরানি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়াদি তদারকির দায়িত্বও তিনি সফলভাবে পালন করেন। গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হামেদানি বরাবরই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং খামেনি সরকারের অন্যতম দৃঢ় ও বিশ্বস্ত সমর্থক হিসেবে পরিচিত। দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোয় ঐতিহ্যবাহী শিয়া মূল্যবোধ রক্ষায় তিনি সব সময়ই আপসহীন ভূমিকা পালন করে এসেছেন।

বিশ্বজুড়ে শিয়া অনুসারীদের কাছে ‘মারজা’ বা অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক হিসেবে তার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চে, আর তাই তার ইমামতিতে খামেনির শেষ বিদায়ের এই আয়োজনটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:১৪
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৬:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২০
  • ১২:০৪
  • ৪:৩৪
  • ৬:২৮
  • ৭:৪৪
  • ৫:৩৬

খামেনির শেষ ইচ্ছায় জানাজায় ইমামতি করলেন প্রবীণ শিয়া আলেম

আপডেট সময় : ০১:২৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পবিত্র নগরী মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজার মাজারে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শিয়া মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রবীণ ধর্মীয় পণ্ডিত, ১০১ বছর বয়সী গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি এই জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার শেষ ইচ্ছা এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি পরম শ্রদ্ধা জানিয়ে এই প্রবীণ আলেমকে জানাজা পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি ১৯২৫ সালের মার্চ মাসে ইরানের হামাদান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ইসলামি জ্ঞানচর্চায় এক অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান অর্জন করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পবিত্র নগরী কোমে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক ও অভিভাবক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আরও পড়ুন, 

তার এই প্রাজ্ঞ গবেষক হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামি দর্শনের প্রখ্যাত পণ্ডিত আল্লামা তাবাতাবাই এবং গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদীর মতো কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বদের সরাসরি শিষ্য ছিলেন। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে তাদের কাছ থেকে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের পর তিনি ইসলামি গবেষণার জগতে এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

আরও পড়ুন, 

পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পর, ইরান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ইরানি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়াদি তদারকির দায়িত্বও তিনি সফলভাবে পালন করেন। গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হামেদানি বরাবরই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং খামেনি সরকারের অন্যতম দৃঢ় ও বিশ্বস্ত সমর্থক হিসেবে পরিচিত। দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোয় ঐতিহ্যবাহী শিয়া মূল্যবোধ রক্ষায় তিনি সব সময়ই আপসহীন ভূমিকা পালন করে এসেছেন।

বিশ্বজুড়ে শিয়া অনুসারীদের কাছে ‘মারজা’ বা অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক হিসেবে তার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চে, আর তাই তার ইমামতিতে খামেনির শেষ বিদায়ের এই আয়োজনটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।