জরাজীর্ণ ভবনে হোটেল ব্যবসা, শিখা ইন আগুনে তোলপাড় কলকাতা

- আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫১৩ বার পড়া হয়েছে
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের আবাসিক হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার রাতের আগুনের পর পাঁচতলা ভবনটিকে ‘বিপজ্জনক ভবন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে পরিচিত মার্কুইস স্ট্রিটের কাছেই ১৫/জি নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় ছিল শিখা ইন। বাইরে থেকে পুরোনো ও জরাজীর্ণ দেখতে ভবনটিতে ছিল সরু ও বাঁকানো লোহার সিঁড়ি। প্রতিটি তলায় ছিল একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস।
আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে ‘বিপজ্জনক’ নোটিশও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় তৃতীয় তলার একটি কার্নিশে আশ্রয় নিয়েছিলেন ঢাকার সুমাইয়া আখতার ও তার স্বামী। সুমাইয়ার ভাষ্য, যে কার্নিশে তারা দাঁড়িয়েছিলেন সেটিও ভাঙা ছিল। পরে তার চিৎকার শুনে মই দিয়ে তাদের উদ্ধার করেন দমকলকর্মীরা।
অভিযোগ রয়েছে, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকলেও বছরের পর বছর ধরে ভবনটিতে হোটেল ব্যবসা চলছিল। শিখা ইনের মালিক বীরেশ্বর মিত্র। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারটি মামলা হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর জরাজীর্ণ ভবনে হোটেল পরিচালনার অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রীরা এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে শিখা ইন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি কলকাতার সব হোটেলকে ফায়ার অডিটের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শহরের ১৬টি বরোতে পৃথক তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
কলকাতায় প্রায় ৩ হাজার ৭৮৮টি হোটেল থাকলেও এর আগে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি হোটেল পরিদর্শন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই পরিদর্শনের প্রতিবেদনও এখনো পুরসভা বা ফায়ার সার্ভিসের কাছে জমা হয়নি। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন হোটেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে পুলিশ। আগামী ২৫ আগস্ট বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তাসহ সার্বিক সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে।



























