ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে বনবিভাগ অফিসে সরকারি নিয়ম অমান্য করে চলছে রমরমা টাকার বাণিজ্য

মোঃ জসিম হোসেন, জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ:
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৫৩২ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহর বন বিভাগ দুর্নীতির চাদরে ঘেরা ডেপুটি রেঞ্জার না হয়ে ফরেস্টার পদে থেকে কিভাবে বসলেন ডেপুটি রেঞ্জার্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চেয়ারে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান জাকির হোসেন। এছাড়াও বন বিভাগে স.মিল ও ট্রান্সপোর্ট পারমিশন” বনজ দ্রব্য হস্তান্তরের পাশের  নামে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকার রমরমা বাণিজ্য, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ট্রাকে বনজ দ্রব্যের পাস গ্রাহকদের বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা, এমন অভিযোগ উঠেছে ফরেস্টার মোঃ জাকির হোসেন এর নামে ।

অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের এক শ্রেণির দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এই শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলায় এই পুরো অবৈধ প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছেন ঝিনাইদহ বন বিভাগের ফরেস্টার জাকির হোসেন এবং ফরেস্ট গার্ড দিপু বিশ্বাস। সরাসরি মাঠপর্যায়ে তারাই এই অর্থ আদায়ের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। বনজ দ্রব্য পরিবহনের জন্য পাস দেওয়ার নামে প্রতিটি গাড়ি থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন, 

শহিদুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডলের ছত্রছায়ায় এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফরেষ্টার জাকির এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন। ফলে পুরো জেলায় বন বিভাগের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং দুর্নীতির ডালপালা বিস্তার লাভ করেছে।

শুধুমাত্র টিপি বা ট্রানজিট পাস বাণিজ্যই নয়, জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ স মিল পরিচালনা এবং শত কিলোমিটার সরকারি বনায়ন কর্মসূচীতেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। কাগজে-কলমে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক দেখানো হলেও বাস্তবে স্বল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে বনায়ন প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। এছাড়া ভাউচার বিহীন গাছের চারা বিক্রি, নিয়মিত অফিস না করা একাধিক অভিযোগ রয়েছে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ জানান, বন বিভাগের এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রকাশ্য হয়রানির কারণে তারা চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

আরও পড়ুন, 

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে ঝিনাইদহ জেলা বন বিভাগের অভিযুক্ত ফরেস্টার জাকির হোসেন বলেন, “এসব নিয়ে লেখালেখির কি দরকার? আমি আপনি সকলের বাড়ি ঝিনাইদহে। খরচ-খরচা লাগলে বলেন।” সবাইকে নিয়ে চলতে হয়।
ঝিনাইদহের সহকারী বন সংরক্ষক মোছাঃ জুমুয়া জামান বলেন, “আমি এই অফিসে নতুন যোগদান করেছি। অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবো।”

যোগাযোগ করা হলে যশোর অঞ্চলের বন সংরক্ষক হারুন অর-রশিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে এই সিন্ডিকেটের আশ্রয়দাতা হিসেবে কথিত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:১৪
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৬:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২০
  • ১২:০৪
  • ৪:৩৪
  • ৬:২৮
  • ৭:৪৪
  • ৫:৩৬

ঝিনাইদহে বনবিভাগ অফিসে সরকারি নিয়ম অমান্য করে চলছে রমরমা টাকার বাণিজ্য

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহর বন বিভাগ দুর্নীতির চাদরে ঘেরা ডেপুটি রেঞ্জার না হয়ে ফরেস্টার পদে থেকে কিভাবে বসলেন ডেপুটি রেঞ্জার্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চেয়ারে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান জাকির হোসেন। এছাড়াও বন বিভাগে স.মিল ও ট্রান্সপোর্ট পারমিশন” বনজ দ্রব্য হস্তান্তরের পাশের  নামে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকার রমরমা বাণিজ্য, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ট্রাকে বনজ দ্রব্যের পাস গ্রাহকদের বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা, এমন অভিযোগ উঠেছে ফরেস্টার মোঃ জাকির হোসেন এর নামে ।

অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের এক শ্রেণির দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এই শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলায় এই পুরো অবৈধ প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছেন ঝিনাইদহ বন বিভাগের ফরেস্টার জাকির হোসেন এবং ফরেস্ট গার্ড দিপু বিশ্বাস। সরাসরি মাঠপর্যায়ে তারাই এই অর্থ আদায়ের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। বনজ দ্রব্য পরিবহনের জন্য পাস দেওয়ার নামে প্রতিটি গাড়ি থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন, 

শহিদুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডলের ছত্রছায়ায় এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফরেষ্টার জাকির এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন। ফলে পুরো জেলায় বন বিভাগের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং দুর্নীতির ডালপালা বিস্তার লাভ করেছে।

শুধুমাত্র টিপি বা ট্রানজিট পাস বাণিজ্যই নয়, জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ স মিল পরিচালনা এবং শত কিলোমিটার সরকারি বনায়ন কর্মসূচীতেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। কাগজে-কলমে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক দেখানো হলেও বাস্তবে স্বল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে বনায়ন প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। এছাড়া ভাউচার বিহীন গাছের চারা বিক্রি, নিয়মিত অফিস না করা একাধিক অভিযোগ রয়েছে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ জানান, বন বিভাগের এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রকাশ্য হয়রানির কারণে তারা চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

আরও পড়ুন, 

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে ঝিনাইদহ জেলা বন বিভাগের অভিযুক্ত ফরেস্টার জাকির হোসেন বলেন, “এসব নিয়ে লেখালেখির কি দরকার? আমি আপনি সকলের বাড়ি ঝিনাইদহে। খরচ-খরচা লাগলে বলেন।” সবাইকে নিয়ে চলতে হয়।
ঝিনাইদহের সহকারী বন সংরক্ষক মোছাঃ জুমুয়া জামান বলেন, “আমি এই অফিসে নতুন যোগদান করেছি। অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবো।”

যোগাযোগ করা হলে যশোর অঞ্চলের বন সংরক্ষক হারুন অর-রশিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে এই সিন্ডিকেটের আশ্রয়দাতা হিসেবে কথিত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।