ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগরিক অধিকার রক্ষার শক্তিশালী সাংবিধানিক হাতিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:০০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / ৫৫৭ বার পড়া হয়েছে

নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যতম কার্যকর সাংবিধানিক ব্যবস্থা হলো রিট। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় হাইকোর্ট পাঁচ ধরনের রিট জারি করতে পারেন। বেআইনি আটক থেকে শুরু করে সরকারি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা কিংবা আইনবহির্ভূত সিদ্ধান্ত বাতিল—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই সাংবিধানিক প্রতিকার।

হেবিয়াস করপাস রিটের মাধ্যমে বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ম্যান্ডামাস রিটে সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন আদালত। সার্টিওরারি রিটের মাধ্যমে আইনবহির্ভূত আদেশ বাতিল করা যায়। প্রহিবিশন রিটে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে আইনগত ক্ষমতার বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত রাখা হয়। আর কো-ওয়ারেন্টো রিটের মাধ্যমে সরকারি পদে থাকা কোনো ব্যক্তির আইনগত বৈধতা যাচাই করা হয়।

আরও পড়ুন, 

বাংলাদেশে জনস্বার্থ রিটের ভিত্তি তৈরি হয় ঐতিহাসিক ‘মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ’ মামলার মাধ্যমে। ওই রায়ে আদালত বলেন, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও জনস্বার্থে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। এরপর থেকেই জনস্বার্থে রিট মামলার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়।

রিটের মাধ্যমে দেশে এসেছে বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। হাইকোর্টের নির্দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও শপিংমলে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নদী দখল ও দূষণ রোধে দেশের নদীগুলোকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু মায়ের নাম দিয়েও ভর্তি হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। র‌্যাগিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের নির্দেশ এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এসেছে রিট মামলার মাধ্যমে।

আরও পড়ুন, 

আইনজীবীদের মতে, রিট শুধু ব্যক্তির অধিকার রক্ষার পথ নয়, এটি জনস্বার্থে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও একটি কার্যকর সাংবিধানিক ব্যবস্থা। তবে জনস্বার্থের নামে অপ্রয়োজনীয় রিট দায়ের না করে এই সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:১৪
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৬:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২০
  • ১২:০৪
  • ৪:৩৪
  • ৬:২৮
  • ৭:৪৪
  • ৫:৩৬

নাগরিক অধিকার রক্ষার শক্তিশালী সাংবিধানিক হাতিয়ার

আপডেট সময় : ০২:০০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যতম কার্যকর সাংবিধানিক ব্যবস্থা হলো রিট। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় হাইকোর্ট পাঁচ ধরনের রিট জারি করতে পারেন। বেআইনি আটক থেকে শুরু করে সরকারি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা কিংবা আইনবহির্ভূত সিদ্ধান্ত বাতিল—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই সাংবিধানিক প্রতিকার।

হেবিয়াস করপাস রিটের মাধ্যমে বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ম্যান্ডামাস রিটে সরকারি কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন আদালত। সার্টিওরারি রিটের মাধ্যমে আইনবহির্ভূত আদেশ বাতিল করা যায়। প্রহিবিশন রিটে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে আইনগত ক্ষমতার বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত রাখা হয়। আর কো-ওয়ারেন্টো রিটের মাধ্যমে সরকারি পদে থাকা কোনো ব্যক্তির আইনগত বৈধতা যাচাই করা হয়।

আরও পড়ুন, 

বাংলাদেশে জনস্বার্থ রিটের ভিত্তি তৈরি হয় ঐতিহাসিক ‘মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ’ মামলার মাধ্যমে। ওই রায়ে আদালত বলেন, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও জনস্বার্থে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। এরপর থেকেই জনস্বার্থে রিট মামলার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়।

রিটের মাধ্যমে দেশে এসেছে বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। হাইকোর্টের নির্দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও শপিংমলে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নদী দখল ও দূষণ রোধে দেশের নদীগুলোকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু মায়ের নাম দিয়েও ভর্তি হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। র‌্যাগিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের নির্দেশ এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এসেছে রিট মামলার মাধ্যমে।

আরও পড়ুন, 

আইনজীবীদের মতে, রিট শুধু ব্যক্তির অধিকার রক্ষার পথ নয়, এটি জনস্বার্থে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও একটি কার্যকর সাংবিধানিক ব্যবস্থা। তবে জনস্বার্থের নামে অপ্রয়োজনীয় রিট দায়ের না করে এই সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।